ঈশ্বরদীতে প্রমত্তা পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পদ্মা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ফাটলের শঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে গণ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়ীয়া স্কুলপাড়া পদ্মার তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকার কয়েকশত মানুষসহ আড়ামবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।
এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা নানা স্লোগানে স্লোগানে অবৈধ ভাবে পদ্মার বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সার্বিক সহযোগিতায় সাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল গং রাতভর বালু উত্তোলন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, রাতের অন্ধকারে আড়ামবাড়ীয়া স্কুল সংলগ্ন পদ্মা নদীতে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে রাতভর বিরতিহীন ভাবে বালু কাটছে। যার ফলে পদ্মানদীর গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী কোহিনুর বেগম বলেন, পদ্মার ভয়াল অবস্থা আমরা এর আগে দেখেছি। আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষের বসতভিটা সব বিলীন হয়েগেছে। বাঁধ দেয়ার পর আমরা একটু স্বস্তিতে থাকলে আবারও ভাঙ্গন আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হতে শুরু করেছে। এভাবে অবাধে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে অচিরেই পদ্মা নদীর নিরাপত্তা বাঁধ ভেঙ্গে আবারো প্লাবিত হবে অত্রাঞ্চল।
আবুল কাশেম বলেন, আমার আব্বারা পদ্মার ভাঙ্গনে সব হারাইছে। এইবার বুঝি আমাদের হারাইতে হবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই। পরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন যুবদল নেতা সোহান পারভেজ বিপুসহ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নের্তৃবৃন্দ। এ সময় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০টি বালু বহনকারী বাল্কহেড অভিযুক্ত এলাকায় পদ্মায় নোঙ্গর করা রয়েছে। পাশেই ২টি বাল্কহেড থেকে বালু আনলোড করছে শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ সোয়াইবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।
আজকালের খবর/বিএস
