অবশেষে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরুর ৩৩ দিন পর তারা এ ঘোষণা দিলেন। তবে আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল ও নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
রবিবার এক খোলা চিঠিতে প্রথমে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। তারা আর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না। তবে ক্লাসে ফিরতে চাওয়ার অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলনের এক দফা দাবি মানতে হবে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন তাঁরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকা পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
