খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি নিয়ে আসা দেড় মাস বয়সী এক শিশুকে যথাযথ প্রাথমিক চিকিৎসা না দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন চিকিৎসককে না জানিয়ে দায়িত্বস্থল ত্যাগ করার অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে খুলনার সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ অক্টোবর সকালে শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তখন দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিশুটিকে নেবুলাইজেশন করানোর পরামর্শ দিলেও তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেননি। এমনকি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন চিকিৎসককেও জানাননি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৩০ মিনিট পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তামান্না খাতুন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনে এ ধরনের অবহেলা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই দিন সকাল আটটায় আমার ডিউটি শেষ হয়। জরুরি বিভাগ থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়। শিশুটির কান্না শুনে নেবুলাইজেশন করার পরামর্শ দিয়ে আমি চলে যাই। বাসায় যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যুর খবর জানতে পারি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি চলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী চিকিৎসকেরা ছুটিতে ছিলেন। এ সময় সীমিত পরিসরে জরুরি বিভাগ চালু রাখার নির্দেশনা ছিল। তিনি বলেন, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনের চলে যাওয়া উচিত হয়নি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
