চট্টগ্রাম থেকে নতুন কেনা মাছ ধরার লালবোট নিয়ে হাতিয়ায় ফেরার পথে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় মেঘনা নদীতে বোটটি ডুবে গেছে। এ সময় বোটে থাকা তিন জেলের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন অন্য দুজন। খবর পেয়ে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, রোববার রাত ৪টার দিকে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন- মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিন। তারা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাদের নিখোঁজের খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিন জানান, চার দিন আগে তারা মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কিনতে চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান। বোটটি কেনার পর রোববার রাতে তারা সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। ফেরার পথে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে পৌঁছালে তাদের বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এ সময় নদীর স্রোতে বোটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
কামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাদের বোটটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় তিনি জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তবে বোটে থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে মিরাজ ও শরীফের নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা অপেক্ষা করছেন। নিখোঁজ দুই জেলেকে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা সদরঘাট থানার সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
