ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হয়েছে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নতুন এ যাত্রাবিরতি উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি উদ্বোধন শেষে ট্রেনে করে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন প্রতিমন্ত্রী। পরে রাত ১টা ৫০ মিনিটে তিনি ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। এ সময় তিনি উপস্থিত কক্সবাজারগামী যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।
পরে রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, ফেনী জেলা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা। এ এলাকার প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। সে কারণেই আজ থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রেল খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। রেলের যেকোনো উন্নয়নের সুফল ফেনীবাসীও পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে আজ একটি পূরণ হয়েছে। ফেনীবাসীর জন্য ট্রেনে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মুহাম্মদ হারুন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর এক্সপ্রেসের ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় স্থানীয় রেলযাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, মহানগর এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন থেকে যাত্রার জন্য মোট ৬২টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য ৪৭টি এবং চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের জন্য ১৫টি আসন রাখা হয়েছে। কক্সবাজারগামী আসনের মধ্যে শোভন চেয়ারের ৩০টি, স্নিগ্ধার ১৫টি এবং এসি বার্থের দুটি আসন রয়েছে।
