Published on
:
2 min read
ওষুধের প্যাকেটের গায়ে MRP (সর্বোচ্চ খুচরো বিক্রয়মূল্য) লেখা ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু দোকানদার সেই ওষুধটাই কিনছেন ২,৭০০ টাকায়। MRP আর কেনা দামের মধ্যে এই বিপুল ফারাক কেন? মঙ্গলবার ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে এই প্রশ্নই তুলল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উপর নজরদারি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।
ওষুধের আকাশছোঁয়া দামে রাশ টানার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন কিষাণ চাঁদ জৈন এবং চিকিৎসক সঞ্জয় কুলশ্রেষ্ঠ। দু’টি আলাদা মামলা, তবে দাবি অনেকটা একই। তাই বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে একসঙ্গে দু’টি মামলার শুনানি চলছে। সেখানেই এ দিন বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের সিস্টেম ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির স্বার্থরক্ষায় কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়ম কি কোনও নজরদারি ছাড়াই চলতে দেওয়া যায়?’
দামের এই বিপুল ফারাক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতিরা বলেন, ‘সরকারের চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটছে। তা হলে সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না?’ ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)। তাদের কাজকর্ম নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘দেখেশুনে মনে হচ্ছে, সংস্থাটি অচল হয়ে পড়েছে।’
শুনানিতে কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি। তিনি আদালতকে জানান, ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার নীতি সরকারের নেই। ঐশ্বর্যর কথায়, ‘বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ভারতে ওষুধের দাম কম।’ তাঁর মতে, ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা, বাজারে পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
ক্যান্সারের ওষুধের ট্রেড মার্জিন (কেনা আর বিক্রির দামের ফারাক) ৩০ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। গত ১২ অক্টোবর এই মামলাতে সেই নিয়েও সরব হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ক্যান্সারের ওষুধে এই নিয়ম হলে অন্য ক্ষেত্রে তা করা যাবে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতিরা। উল্লেখ্য, দু’টি মামলারই শুনানি শেষ হয়েছে এ দিন। তবে রায় স্থগিত রেখেছে আদালত।
