টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন স্বপ্ন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও আছে আত্মবিশ্বাসের রসদ। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে শুধু স্বপ্ন বড় করার সুযোগই থাকছে না, থাকছে অবস্থান হারানোর ঝুঁকিও। মিরপুরের মাঠে বুধবার শুরু সিরিজের প্রথম টেস্ট তাই বাংলাদেশের লড়াইটা হবে দুই দিক থেকে-একদিকে সিরিজ জয়, অন্যদিকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের জায়গা রক্ষা!
আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে বাংলাদেশ। ঠিক দুই ধাপ পেছনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৪। মাঝখানে শ্রীলঙ্কা, তাদের রেটিং ৭৫। ব্যবধান এতটাই কম যে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষেই বদলে যেতে পারে র্যাঙ্কিংয়ের চিত্র। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য ওপরে ওঠার সুযোগ নেই। তবে নিচে নেমে যাওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।
সমীকরণটা বাংলাদেশের জন্য বেশ অদ্ভুত। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতলেও ষষ্ঠ স্থানেই থাকতে হবে। তবে রেটিং বাড়বে ৭৭ থেকে ৮২-তে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং নেমে আসবে ৭০-এ। তাতে নবম স্থানে চলে যাবে ক্যারিবীয়রা। পাকিস্তান উঠে আসবে অষ্টম স্থানে।
কিন্তু উল্টো ফল হলে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে বড় ধাক্কা! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দুই টেস্টেই হারলে বাংলাদেশের রেটিং কমে দাঁড়াবে ৭১-এ। আর ক্যারিবীয়দের রেটিং বেড়ে হবে ৮০। তখন বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্থান দখল করে নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে নেমে যাবে শান্তর দল। সিরিজের দুই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের হিসাব শুধু ট্রফি বা পয়েন্টেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, সরাসরি প্রভাব ফেলবে দুই দলের আন্তর্জাতিক অবস্থানেও।
ড্রয়ের সমীকরণেও বাংলাদেশের জন্য খুব বেশি লাভ নেই। সিরিজ ১-১ ব্যবধানে শেষ হলে বাংলাদেশের রেটিং কমে হবে ৭৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাড়বে এক পয়েন্ট, ৭৪ থেকে হবে ৭৫। অবস্থান অবশ্য বদলাবে না। বাংলাদেশ থাকবে ছয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটে।
তবে র্যাঙ্কিংয়ের চেয়েও বড় প্রেরণা হতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্ন। ২০২৫-২৭ চক্রে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হারের পর পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ও সেই আত্মবিশ্বাসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও জানিয়েছেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার আকাঙ্ক্ষাই দলকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
সিরিজের আগে বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। ১৫ সদস্যের দলে আছেন লিটন দাসও। ফলে ঘরের মাঠে শক্তিশালী দল নিয়েই ক্যারিবীয়দের মোকাবিলা করতে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেতৃত্বে থাকবেন রোস্টন চেজ।
অবশ্য ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের টেস্ট ইতিহাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ১৫টি, বাংলাদেশের পাঁচটি। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। তাই র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব কিংবা সাম্প্রতিক সাফল্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরু ২৮ অক্টোবর। দ্বিতীয় ম্যাচ ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার। একই সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমান অবস্থান ধরে রাখারও। সিরিজ জিতলে রেটিং বাড়বে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে, ফাইনালের স্বপ্নও পাবে নতুন শক্তি। আর দুই ম্যাচে হেরে গেলে শুধু সিরিজ নয়, হারাতে হতে পারে র্যাঙ্কিংয়ের দুই ধাপও। মিরপুরে তাই বাংলাদেশের জন্য হিসাবটা পরিষ্কার-জয়ের বিকল্প যত কম, ভুলের মাশুল তত বড়!
