আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন তারেক রহমান। চার দিনের সফরে জাপানে অবস্থান করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও দুই পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।
তারেক রহমানের ভাষ্য, জাপানে তাঁর এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুযোগে পরিণত করা।
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৩২ কোটি ডলারের সহায়তা
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আশাব্যঞ্জক। এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তারেক রহমান।
এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা, দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিগ-বি উদ্যোগে যৌথ অঙ্গীকার
বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নবায়িত সহযোগিতার আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা কামনা
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপান বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হলে উভয় দেশই উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
এমএ
