ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকায় ওয়ারিশ কায়েম সনদ নিয়ে জমির মালিকানা বিরোধ দেখা দিয়েছে। ভুয়া সনদ ব্যবহার করে জমির অংশ দাবি ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে গজনবী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারিশরা সম্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা অভিযোগটি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরপুর ইউনিয়নের চরকচ্ছপিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপুর এলাকার মৃত সেকান্তর মিয়ার প্রথম স্ত্রী ছিলেন লালবরু। তাদের সংসারে সুরুত আলী নামে এক ছেলে জন্মগ্রহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে সেকান্তর মিয়া লালবরুকে তালাক দিয়ে সংশী বিবিকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেকান্তর মিয়ার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ১ একর ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তির হিস্যা নির্ধারিত হয়। তবে সংশী বিবির প্রাপ্য অংশকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, সুরুত আলীর ছেলে গজনবী ২০২১ সালে বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফরিদ তালুকদারের কাছ থেকে তার দাদী লালবরুকে ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ করে একটি ওয়ারিশ কায়েম সনদ সংগ্রহ করেন। পরে ওই সনদ ব্যবহার করে সংশী বিবির প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ দাবি করা হয়।
এ নিয়ে সংশী বিবি ভোলা আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলায় ব্যবহৃত ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর রায় পুনর্বিবেচনা ও আপিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দাবি করেছে।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপিল মামলা নম্বর ১৫/২০২০-এর কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা ও সনদের বৈধতা সম্পর্কে আদালতের নথি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত সেকান্তর মিয়ার মেয়ে লুৎফা বেগম বলেন, তার বাবা লালবরুকে তালাক দেওয়ার পর সংশী বিবিকে বিয়ে করেন। পরে লালবরু পাশের এলাকার গহর আলীকে বিয়ে করেন।
গহর আলী একসময় নাজিরপুর থেকে কালাইয়া নৌপথে খেয়া পারাপারের কাজ করতেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
লুৎফা বেগম জানান, ওয়ারিশ সনদকে কেন্দ্র করে গজনবী ও তার পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান তিনি।
স্থানীয় রত্তন দফাদার, আজাহার মুসলমান, আলী মুসলমান ও রুহুল আমিনও এ বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে গজনবী বলেন, আমাদের জমি আমরা ভোগদখলে আছি।
বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশ সনদে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরকারী আবু চৌকিদার বলেন, বিষয়টি যাচাই করে তিনি জানতে পেরেছেন যে সেকান্তর মিয়ার সম্পত্তির ২ আনার মালিক সংশী বিবি।
লালবরুকে আগেই তালাক দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। জমির মালিকানা ও ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ নিষ্পত্তি চান ভুক্তভোগীরা।
বিআলো/আমিনা