Published on
:
2 min read
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিল নির্বাচন কমিশন। সেই হলফনামায় জানানো হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত Form 6-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও দাবি করেছে কমিশন।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি রিপোর্টের পরেই SIR সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী SIR সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি করে রাস্তায় নামে বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত
তবে কমিশন এ দিন হলফনামায় জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে SIR নিয়ে যে তিনটি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলি তিন সদস্যের কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। কমিশনের ব্যাখ্যা, কোনও নথি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) কাছে উপস্থাপনের আগে সাধারণত বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সেটি পর্যালোচনা করেন। জরুরি প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরবর্তীকালে তা নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, চাকরির শর্ত এবং মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সেই আইনি কাঠামো মেনেই পরিচালিত হয়।
ফর্ম ৬ নিয়ে জবাব
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফর্ম ৬ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ফর্ম ৬-এ নতুন ডিক্লারেশন যুক্ত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এর মূল কাঠামোয় কোনও সংশোধন করা হয়নি। কমিশনের দাবি, নির্ধারিত ফর্ম সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে। SIR-এর জন্য ব্যবহৃত ঘোষণাপত্রটি মূল ফর্ম নয়, পৃথক একটি নথি। কমিশনের দাবি, অনলাইনে আবেদন করার সময়ে ফর্ম ও ঘোষণাপত্র যে ভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে Form 6 সংশোধন করা হয়েছে বলে মনে হতে পারে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় Form 6 এবং SIR-এর ঘোষণাপত্রকে পৃথক অংশে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ECINet অ্যাপ ও গোয়ায় ভোটার বাদ দেওয়া
ECINet অ্যাপ্লিকেশন নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন জানিয়েছে, ERO-র (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) নির্দেশ ছাড়া কোনও ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত বা ডিলিট করা যায় না। তবে অ্যাপ-এর সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্য দিকে, গোয়ার ভোটার তালিকায় ৯৭ জনের বাদ দেওয়ার বিষয় নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, ৯৭ জনের মধ্যে ৮৮ জনের নাম ইতিমধ্যে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছয় জন বিদেশে রয়েছেন। তিনজনের পর্তুগিজ পাসপোর্ট রয়েছে।
