ফ্রিজের ঠান্ডা ভাত গরম করলে কখনও শক্ত, শুকনো হয়ে যায়, কখনও আবার দলা পাকিয়ে যায়। ঝরঝরে তো হয়ই না, উল্টে আরও জমাট বেঁধে যায়। এর পিছনে আছে বিজ্ঞান। এর নাম স্টার্চ রেট্রোগ্রেডেশন। ভাত রান্নার সময় গরম জলে চালের স্টার্চ ফুলে নরম হয়। ঠান্ডা হতেই সেই স্টার্চের অণুগুলো আবার নিজেদের গঠন বদলে শক্ত হয়ে যায়। তাই ভাত জমাট বাঁধে।
ঠান্ডা ভাতে তৈরি হয় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। এটি হজম ধীরে করে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই পুষ্টিবিদরা বলেন, আগের দিনের ঠান্ডা ভাত ফেলে না দিয়ে গরম করে খান। উপকার বেশি পাবেন।
উপকার তো অনেক আছে, তবে শক্ত ভাত খেতে মোটেও ভাল লাগে না। সেই ভাত জল দিয়ে গরম করলে আবার বেশি গলে যায়, তখনও ভাতের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন কয়েক টুকরো বরফ।
বরফ দিয়েই ফ্রিজের শক্ত ভাত ২ মিনিটে ঝরঝরে করুন, মাইক্রোওয়েভ বা গ্যাস দুটোতেই কাজ করবে:
পদ্ধতি ১: মাইক্রোওয়েভে গরম করুন
১. এক বাটি ঠান্ডা ভাত নিন।
২. উপরে ২-৩ টুকরো বরফ ছড়িয়ে দিন। ১ বাটি ভাতে ২ টুকরোই যথেষ্ট।
৩. ৩ মিনিট গরম করুন। বরফ গলে বাষ্প হবে, আর সেই বাষ্পেই ভাত ভিতর থেকে নরম আর ঝুরঝুরে হয়ে যাবে, একদম সদ্য বানানো ভাতের মতো।
পদ্ধতি ২: গ্যাসে গরম করুন
১. কড়াইয়ে ভাত দিন, উপরে ২ টুকরো বরফ দিন।
২. ১ চামচ জল ছিটিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন।
৩. একদম কম আঁচে ৩-৪ মিনিট রাখুন। ঢাকনা খুলবেন না।
কেন কাজ করে?
বরফ সরাসরি জল ঢেলে দেওয়ার মতো ভাতকে নরম করে দেয় না। আস্তে আস্তে গলে বাষ্প তৈরি করে, তাই ভাত ঝরঝরে থাকে, দলা পাকায় না।
