ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ (৪৪.৯ শতাংশ) ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে দুপুর ২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড। খবর আল জাজিরার।
১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক যুদ্ধের সময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশটিতে আর কখনো এত কম সময়ে এত বিপুল পরিমাণ ভোট পড়েনি। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের তুলনায় এবার একই সময়ে ভোটার উপস্থিতির হার ৬ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর এক ধরনের ‘গণভোট’ হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।
ভোটের মাঠে প্রভাব ও থ্রেশহোল্ড সমীকরণ
উচ্চ ভোটার উপস্থিতির ফলে নির্বাচনে জয়ের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে প্রবেশের জন্য যেকোনো দলকে অন্তত ৩.২৫ শতাংশ ভোট (থ্রেশহোল্ড) পেতে হয়। ভোটার উপস্থিতি বাড়ায় এই থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি একক ভোটের প্রয়োজন হবে, যা ছোট দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি ও নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি
ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেতানিয়াহু তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় বলেন, বামপন্থি বিরোধী শিবির ও ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের (মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ) কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সমর্থকদের কেন্দ্রে যাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। আপনারা ভোট কেন্দ্রে আসুন।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রার্থী আহমেদ তিবি জানান, ফিলিস্তিনি ভোটাররা অভূতপূর্ব সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছেন।
বৈরি আবহাওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার সতর্কতার মধ্যেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ অভিযোগ করেছে, অন্তত ১৮টি ফিলিস্তিন-অধ্যুষিত এলাকায় কৃত্রিমভাবে ভোটগ্রহণে দেরি করা হচ্ছে।
নেগেভ মরুভূমির একটি সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংস্থাটি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
