Published on
:
2 min read
এই সময়: গত বুধবার ৩,৯৮৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত কেওয়াইসি তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার কথা শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)। যা নিয়ে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শুক্রবার তারা নিশ্চিত করল, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ব্যাঙ্কে নিরাপদেই রয়েছে। যা গ্রাহকমহলে স্বস্তি বাড়িয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কটি জানিয়েছে, সম্প্রতি ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যে সব গ্রাহকের তথ্য সামনে এসেছে, তাঁদের প্রত্যেককে ইমেল অথবা হোয়াটসঅ্যাপ-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যাঙ্কে সুরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, এসবিআই জানিয়েছে, ডার্ক ওয়েব থেকে পাওয়া ৩.৭৫ লক্ষ তথ্যের মধ্যে ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। যা প্রকাশের পরেই তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যাঙ্কের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যে গ্রাহকদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে তাঁদের নাম, রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর, জন্মের তারিখ, ইমেল আইডি, বাড়ির ঠিকানা, ব্যাঙ্কের শাখার নাম, কাস্টমার আইডি এবং ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। যদিও তাঁদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন)-এর কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিল এসবিআই। তার পরেই তারা সাইবার সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রোটোকল চালু করে। এ ছাড়াও ঘটনার তদন্তে সার্ট-ইন স্বীকৃত একটি সাইবার সিকিওরিটি এজেন্সিকে নিয়োগ করে।
এসবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের সত্যতা এবং তা ঠিক কতটা প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্যের উৎস এবং তা কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই বিষয়টি বোঝার জন্যও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও এই ঘটনায় আগামী দিনে গ্রাহক এবং ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে কী কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও ‘ডিটেলস ইনভেস্টিগেশন’ চলছে। তবে তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটলেও তার জন্য ব্যাঙ্কের আর্থিক কোনও ক্ষতি হয়নি বা তাঁদের দৈনন্দিন কাজে কোনও প্রভাব পড়েনি।
তবে গ্রাহকদের উদ্দেশে ব্যাঙ্কের পরামর্শ, তাঁরা যেন ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং-এর ক্ষেত্রে নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, কাউকে যেন ওটিপি এবং পিন-এর মতো তথ্য না দেন। পাশাপাশি, সন্দেহজনক ফোন, মেসেজ এবং ইমেল থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।