Published on
:
2 min read
প্রায় ১২ ঘণ্টা খনির গর্ভে আটকে থাকার পরে উদ্ধার করা হলো ECL-এর ১২ জন শ্রমিককে। সোমবার পাণ্ডবেশ্বরে ECL-এর কুমারডিহির কয়লা খনিতে লিফটের তারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২ জন শ্রমিক আটকে পড়েন। রাতেই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়। ECL কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, শ্রমিকরা প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। ওই দিন সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ডুলিতে করে কয়েক জন শ্রমিক নীচের দিকে নামছিলেন। অন্যদিকে কাজ শেষ করে কয়েকজন শ্রমিক উপরে উঠে আসছিলেন। সেই সময়েই ওঠা-নামা করার জন্য ব্যবহৃত সিস্টেমের ড্রামে একটি তার ডুলিতে আটকে যায়। খনির মধ্যেই আটকে পড়েন শ্রমিকরা। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, ১৪ জন শ্রমিক খনিতে আটকে পড়েছিলেন। পরে, মঙ্গলবার সকালে ECL-এর আধিকারিকরা জানান, ১৪ জন নয়, ভেতরে ১২ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন।
সোমবার রাত থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ECL-এর সেফটি টিম এবং মেকানিক্যাল টিমের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এর পাশাপাশি, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের মনের জোর বাড়াতে উপর থেকে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ক্রমাগত তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। উপর থেকে খাবার এবং জলও সরবরাহ করা হয়। আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থাও করা হয়ে ECL-এর তরফে।
অবশেষে প্রায় ১২ ঘণ্টা খনির মধ্যে আটকে থাকার পরে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উদ্ধার করা হয় ওই শ্রমিকদের। তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ECL কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ECL-এর আধিকারিক অসীম কুমার বলেন, ‘এটা একটা মেজর ব্রেকডাউন। নিরাপত্তা বজায় রেখে আটক শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছে।’ বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ‘ECL-এর সব কর্মী, আধিকারিক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ সারারাত কারও ঘুম ছিল না।’ দীর্ঘ সময় পরে সব শ্রমিক নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সকলেই।
