সম্পর্কের শুরু মানেই গদগদ প্রেম। কখনও দীর্ঘ ফোনালাপ, কখনও একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, কখনও বা ছোট্ট কোনও উপহারেই মন ভাল হয়ে যাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব, সন্তানকে সামলানো— সব মিলিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায় সেই আলাদা করে সময় কাটানোর অভ্যাস। কথা হয় ঠিকই, তবে বেশির ভাগটা জুড়ে থাকে বাজার করা, অফিসের কাজ অথবা সংসারের হিসাব। সঙ্গী পাশে থাকলেও মনের দূরত্ব যেন বাড়তে থাকে অজান্তেই।
এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ককে নতুন করে সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। তাঁর মতে, ব্যস্ত জীবনে একে অপরের জন্য সচেতন ভাবে সময় বার করে নেওয়া জরুরি। আর সেই অভ্যাস গড়ে তুলতেই তিনি ‘২-২-২’ নিয়মের কথা বলেছেন। কিন্তু কী এই নিয়ম? সত্যিই কি এর সাহায্যে পুরনো সম্পর্কেও ফিরতে পারে নতুন প্রেমের আমেজ?
সম্পর্ককে নতুন করে সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। ছবি: সংগৃহীত
কী এই ‘২-২-২’ নিয়ম?
ভাগ্যশ্রীর বলা এই নিয়মের মূল কথা হল, সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোকে কাজের ফাঁকে পাওয়া অবসর হিসেবে না দেখে, সম্পর্কের জন্য আলাদা করে সময় বরাদ্দ করা। এই পদ্ধতিতে রয়েছে তিনটি সহজ অভ্যাস।
১. ডেটে যাওয়া: প্রতি দু’সপ্তাহে এক বার ডেটে যান। তার জন্য দামি রেস্তরাঁয় যেতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। একসঙ্গে কফি খাওয়া, পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যাওয়া বা বাড়িতে বসে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, এমন যে কোনও কিছুই হতে পারে। তবে সেই সময়টা যেন সত্যিই দু’জনের হয়। ফোন সরিয়ে রেখে একে অপরের কথা শুনুন। অফিসের কাজ বা সংসারের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা না করে কথা বলুন নিজেদের পছন্দ, ইচ্ছা, অনুভূতি ও সম্পর্ক নিয়ে।
২. প্রশংসা করা: সঙ্গীর দু’টি গুণের কথা তাঁকে জানান। অনেক সময়ে মনে মনে সঙ্গীর প্রশংসা করলেও তা মুখে বলা হয় না। অথচ তাঁর কোনও ছোট্ট অভ্যাস, কঠিন সময়ে পাশে থাকা বা প্রতিদিনের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়গুলিও যে আপনার ভাল লাগে, সেটা জানানো জরুরি। ডেটে গিয়ে সঙ্গীর এমন দু’টি গুণ বা অভ্যাসের কথা বলুন, যা আপনার বড় প্রিয়। আন্তরিক প্রশংসা সম্পর্কের মূল্যবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৩. নীরবে তাকিয়ে থাকা: ডেটের শেষে দু’মিনিট চুপ করে একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন। কোনও কথা নয়, ফোন নয়, অন্য কোনও ব্যস্ততাও নয়। শুধু দু’জনের উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করুন। ভাগ্যশ্রীর মতে, এই নীরব মুহূর্তও সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে।
ভাগ্যশ্রীর পরামর্শে বিশেষ সময়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘২-২-২’ নিয়মের গুরুত্ব সংখ্যায় নয়, বরং সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলিকে নিয়মিত জীবনের অংশ করে তোলার চেষ্টায়। ডেটের সময়ে ফোন দূরে রাখা, সঙ্গীর প্রশংসা করা এবং নীরবে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো অভ্যাসগুলি দু’জন মানুষকে আর একটু কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। যে সম্পর্কে একঘেয়েমি ঘিরে ধরেছে, সে সবের ক্ষেত্রে সম্পর্কের জন্য নিয়মিত সময় বরাদ্দ করলে উপকার মিলতে পারে। একান্তে কথা বললে সঙ্গীর মানসিক অবস্থা, চাহিদা ও সমস্যাগুলি বুঝতে সুবিধা হয়। আবার একসঙ্গে নতুন কিছু করলে দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমিও কাটতে পারে। ছোট ছোট প্রশংসা এবং মনোযোগের মাধ্যমে দু’জনেই বুঝতে পারেন যে সম্পর্কটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
