দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে দুই বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু! এ বার মৃত্যু হল ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাসুদেব নস্করের।
৪৪ বছরের ওই ব্যক্তির বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকায়। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সোনালি নস্কর। গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৈধ চিকিৎসা সংক্রান্ত ডিগ্রি বা শংসাপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরিচয়ে চিকিৎসা চালানো এবং টাকার বিনিময়ে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার অভিযোগে অক্টোবর মাসেই গ্রেফতার হয়েছিলেন বাসুদেব। আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে ছিলেন। বাসুদেবের স্ত্রী জানান, সোমবার তিনি পুলিশের কাছ থেকে খবর পান যে স্বামী অসুস্থ। খবর পেয়ে প্রথমে জেলে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বামী জেলে নেই। তার পর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছোন সোনালি।
মহিলার অভিযোগ, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, বেডের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন তাঁর স্বামী। সেই অবস্থায় স্বামীকে দেখার পর বাড়ি ফিরে যান তিনি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের স্বামীকে দেখতে হাসপাতালে যান। তখনই গিয়ে শোনেন তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা, কোনও বিষয়েই পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। কী কারণে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোনালি বলেন, ‘‘স্বামীকে খুন করা হয়েছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’’
মঙ্গলবারই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর বেশি সরকারি ভাবে আর কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের শৌচাগার থেকে বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে শোরগোল হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতে আর এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হল মঙ্গলবার। স্বাভাভিক ভাবে বন্দিদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরদারির ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাসুদেবের মৃত্যুর কারণ এবং পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশদে কিছুই বলতে চাননি।
