জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে তিন কৃষকের বেগুনক্ষেতে ঘাসনাশক বিষ প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়তারা গ্রামে ঘটা এই অমানবিক ঘটনায় প্রায় ৪২ শতক জমির উদীয়মান বেগুনগাছ মরে যাওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই কৃষকেরা।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত জমির সমস্ত বেগুনগাছ রোদের তাপে নেতিয়ে ও শুকিয়ে পড়ে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন বড়তারা গ্রামের মামুনুর রশিদ, আমজাদ হোসেন এবং আবু হেনার স্ত্রী জুলেখা বেগম। তাদের মধ্যে মামুনুর রশিদের ১২ শতক, আমজাদ হোসেনের ২০ শতক এবং জুলেখা বেগমের ১০ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুনুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, আমার ১২ শতক জমিতে খুব ভালো বেগুনের আবাদ হয়েছিল। ফসল উৎপাদনে অনেক টাকা ও কায়িক শ্রম ব্যয় করেছি। অথচ রাতের আঁধারে কে বা কারা শত্রুতা করে বেগুনগাছে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করেছে। এখন সব শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
আরেক কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২০ শতক জমিতে চাষ করা গাছে সবেমাত্র বেগুন ধরতে শুরু করেছিল। সকালে জমিতে এসে দেখি সূর্যের আলোতে গাছগুলো নেতিয়ে পড়ছে। বুঝতে পেরে জমিতে পানি স্প্রে করেও কোনো লাভ হয়নি, গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এই হীন কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
কৃষক জুলেখা বেগম বলেন, আমাদের ১০ শতক জমির বেগুনগাছও বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমে গড়া ফসল এভাবে নষ্ট করায় আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ দত্ত জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, কৃষকদের ফসলে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতির বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
