সকালে ঘুম থেকে উঠেই কি দেখেন সুগার বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে? অনেকেরই এমন হয়। হয়তো সারাদিন নিয়মেই থাকেন, ওষুধও খান, ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেন। তার পরেও সকাল সকাল সুগার চড়চড় করে বেড়ে যাওয়ার কারণ কি? কেবল মিষ্টি খেয়ে ফেলার কারণে এমন হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। বরং আগের রাতে বা সকালে এমন কিছু ভুল হচ্ছে, যে কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কোন কোন ভুলে এমন হতে পারে, তা জেনে রাখা জরুরি।
রাতের খাবারে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি
অনেকেই রাতে ভাত, রুটি বা ময়দার তৈরি খাবার কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকেন। রক্তে শর্করা আগে থেকেই বেশি থাকলে, রাতের খাবারে রাশ টানা জরুরি। অতিরিক্ত ভাত বা রুটি, অথবা একাধিক মিষ্টি খেয়ে ফেললে বা সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় চিনি বা কৃত্রিম চিনি দেওয়া চা বা কফি খেলে, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকবে। এর সঙ্গে যদি রাতে পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটাচলা না হয়, তবে সকালের দিকে এই শর্করার মাত্রা আরও বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
‘ডন ফেনোমেনন’
রাত ২টো থেকে সকাল ৮টার মধ্যে শরীর স্বাভাবিক ভাবেই কর্টিসল, গ্রোথ হরমোন, অ্যাড্রেনালিন এবং গ্লুকাগনের মতো কিছু হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসরণ করতে শুরু করে। এই হরমোনগুলির কাজ হল শরীরকে সারাদিনের কাজের জন্য শক্তি জোগানো, যা লিভারকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ উৎপাদনে উদ্দীপ্ত করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ডন ফেনোমেনন’। যাঁদের সুগার বেশি এবং ইনসুলিনও ঠিকমতো কাজ করে না, তাঁদের ক্ষেত্রে শরীর এই অতিরিক্ত শর্করার সঙ্গে লড়াই করতে পারে না, ফলে সকালে সুগার চড়চড় করে বেড়ে যায়।
রাতে কম ঘুম
কম ঘুম বা অনিদ্রা শরীরের ইনসুলিনের মাত্রার হেরফের ঘটায়। কম ঘুমের কারণে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়ে, যে কারণে লিভার অতিরিক্ত গ্লুকোজ় তৈরি করতে শুরু করে। তা ছাড়া ঘুম কম হলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঘ্রেলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা বিপাকক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাত জেগে মোবাইল দেখা বা রিল দেখে যাওয়ার কারণে যাঁরা কম ঘুমোচ্ছেন, তাঁদের বিপদ বেশি।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্ন্যাক্স
ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে বেশি পরিমাণে স্ন্যাক্স ও ভাজাভুজি খেলে তা হজম করতে পরিপাকতন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে সারারাত ধরে রক্তে গ্লুকোজের সরবরাহ বজায় থাকে। অগ্ন্যাশয় অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স বৃদ্ধি পায়। ফলে সকাল থেকেই সুগারের মাত্রা বাড়তে থাকে।
রাতে কম জল পান
শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। জলশূন্যতার কারণে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তে থাকে। সে কারণে সকালে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতে সময়মতো খাবার খাওয়া, পরিমিত খাবার খাওয়া, খাবারের তালিকায় প্রোটিন ও ফাইবার বেশি রাখা ও পর্যাপ্ত জলপান করা জরুরি।
