আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান বলেছেন, ছাত্রদলের রাজনীতি থেকেই তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লড়াইয়ের শিক্ষা তিনি সেখান থেকেই পেয়েছেন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া, আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণা করেছেন তিনি।
সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তারেক রহমান। সেখানে তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত থাকা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে তারেক রহমান লেখেন, ২০১১ সালে তিনি ছাত্রদলের মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন। ওই সময় কুমিল্লার রানীর দিঘীর পাড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের শহর শাখার নেতাকর্মীরা তাঁর গলায় এন্টিকাটার ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ২০১৩ সালে কোটা আন্দোলনে অংশ নিতে একটি দল নিয়ে ঢাকায় এসে চারুকলার সামনে হামলার শিকার হন তাঁরা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় যুক্ত হন।
তারেক রহমান বলেন, ২০১৩ সালের কোটা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৭ সালে আবারও কোটা আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগও তিনি নিজেই নিয়েছিলেন।
আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১৮ সালের আন্দোলন শুরুর আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের টেবিলে টেবিলে হাতে লেখা লিফলেট রেখে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। শিক্ষার্থীদের বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় কনফিডেন্স ও ওরাকল সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিল বলে জানান তারেক রহমান। বিশেষ করে কনফিডেন্সের শিক্ষক সানোয়ার স্যারের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তখন কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন।
স্ট্যাটাসে তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তিনি নিজেসহ ৫৪ জন আটক হন। এ ঘটনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোদ্ধা মোশারফ হোসাইনকে ফোন করেন তিনি। পরে ছাত্রদলের সহযোদ্ধা কামরুলের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয় বলে জানান তিনি। তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলেছিল বলেও দাবি করেন তারেক রহমান।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনে রাজপথের প্রথম প্রতিরোধ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তানভীর, হানিফ ও তরিকুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৮ সালের আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তারেক রহমান লেখেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্মরণ করলে তাঁর গা শিউরে ওঠে। পরে দীন মোহাম্মদ, ভিপি নুর, রাশেদ খান, মামুন, ফারুক হাসান ও সোহরাব হোসেনসহ অনেকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। সবাই মিলে আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে তিনি একটি অসাধারণ লড়াইয়ের অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
পরবর্তী সময়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠিত হয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এরপর যুব অধিকার, গণঅধিকার ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ গড়ে ওঠে। তবে বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। পরে মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতা দলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের কাছ থেকেই শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও শিকড় সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লড়াইয়ের শিক্ষা তিনি ছাত্রদল থেকেই পেয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শকে নিজের রাজনৈতিক শিকড় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এসব কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে কাজ করেছেন বলেও নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন আমজনতা দলের এই নেতা।

