সোনার রাস্তা! চারপাশে স্বর্ণখচিত সব বিলাসদ্রব্য। চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া সে পথে হাঁটতে গিয়ে মনে হতেই পারে—‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। সোনার শহর ‘এল ডোরাডো’ যা এতদিন ছিল লোককথা ও কল্পনায়, তাকেই বাস্তব করে তোলার পথে দুবাই। বিশ্বে প্রথম সোনার রাস্তা তৈরি হচ্ছে দুবাইয়ের ডেরা এলাকায়। দুবাইয়ের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণবাজার হল ডেরা। বিশ্বের নানা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। সেই স্বর্ণবাজারকেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সোনার রাস্তা তৈরি হচ্ছে সেখানে।
দুবাইয়ের আল-রাস এলাকায় রয়েছে ডেরা সোনার বাজার। এটি কেবল দুবাই নয়, গোটা বিশ্বেরই বৃহত্তম সোনার বাজার। প্রায় চারশোটি সোনার দোকান রয়েছে সেখানে। ১৮ থেকে ২৪ ক্যারাটের সোনা, রুপো, প্ল্যাটিনাম, হিরের দোকানে সাজানো সেই এলাকায়। রয়েছে সোনার তৈরি নানা বিলাসবহুল সামগ্রীর দোকানও। সেই এলাকার রাস্তাটিকেই এ বার সোনায় মুড়ে দিতে চলেছে ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’। অর্থাৎ, রাস্তাটি হবে সোনার পাতে মোড়া। সেই সোনার উপর দিয়েই হাঁটতে পারবেন পর্যটকেরা।
বিশ্বে প্রথম সোনার রাস্তা তৈরি হচ্ছে দুবাইতে।
এ বছরের শেষেই রাস্তাটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক রশিদ আল হারমুদি জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি খোলা থাকবে সোনার পথ। রাস্তার দু’পাশে স্বর্ণ অলঙ্কারের প্রদর্শনীও হবে রোজ। ২৪ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মুড়ে তৈরি হবে সে রাস্তা। বাস্তবে সোনার উপর দিয়েই হাঁটবেন লোকজন। তাতে রাজকীয় অনুভূতি হবে পথচারীদের। বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ডেরার নাম ও খ্যাতি আরও বৃদ্ধি করার জন্যই এই প্রচেষ্টা বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বের নানা দেশের হাজারের বেশি অলঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থা ডেরায় পৌঁছে গিয়েছে। সোনার পথে হাঁটার সময়ে সেই সব নামীদামি ব্র্যান্ডের সোনার ও হিরের গয়না দেখতে পাবেন পর্যটকেরা। তা কেনার আকর্ষণীয় ছাড়ও থাকবে। দুবাইতে হলুদ ধাতুর দাম এমনিতেও তুলনামূলক ভাবে কম। এ বার সোনা কেনার সেই সুযোগকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে।
