এই বইগুলোর যে কোনও একটি আজ রাতে হাতে তুলে নিন। রইল রহস্যের হদিশ।

৬ বইছবি : সংগৃহীত।
রহস্য বা ভালো গল্পের তো বয়স হয় না। হোক সে পাহাড়ি গ্রামের কুটির, অন্ধকূপ ফাটল, কিংবা কোনও শিল্পীর জাদুকরী ক্যানভাস। এই বইগুলোর যে কোনও একটি আজ রাতে হাতে তুলে নিন। তার পরে দেখুন, পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে রাত কী ভাবে কেটে যায়। রইল ৬ বইয়ের খোঁজ।
খাসনবীশের খসড়া — দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়ছবি : সংগৃহীত।
আমাদের চারপাশের অতি পরিচিত আলোকোজ্জ্বল জগৎটার আনাচে-কানাচেই লুকিয়ে আছে মিশমিশে অন্ধকারমাখা অজানা ভয়। শিরদাঁড়ায় কাঁপন ধরানো সেই সমস্ত ব্যাখ্যাহীন আতঙ্কের দুনিয়া খুলে যাবে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। এই দমবন্ধ করা ধূসর পৃথিবীতে উঁকি মেরে আপনার মনে হতে পারে, ‘এও কি হয়?’ হয় মশাই, হয়। আসলে হয় না বলে কিছু হয় না। ডিস্টোপিয়ার অতল অন্ধকারে, বিজ্ঞান কল্পনার ছায়ায় জন্ম নিয়েছে এক নতুন ঘরানার ভয় — বুদ্ধিদীপ্ত আতঙ্ক। তরুণ লেখিকা দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়ের কলমে দু’টি প্রাপ্তবয়স্ক উপন্যাস আর চারটি হিমশীতল আতঙ্কের গল্প নিয়ে সাজানো এই বই।
শিউলি ফুলের ভাত — মনোয়ারুল ইসলামছবি : সংগৃহীত।
গানটা শুনতে শুনতেই শাহানার গলা, হাত-পা, পেট আলাদা করে ফেলা হয়। একটুও বিচলিত হয় না মানুষটা, হাত কাঁপে না একবারও। কোনও মায়া নেই, মমতা নেই। খুনের সময় জগতের কোনও কিছুর ধার ধারে না সে, মৃত্যুই তার কাছে শেষ কথা। রোমহর্ষক এই প্লট আপনাকে প্রথম পাতা থেকেই গ্রাস করবে।
হাওয়ার রাত — সায়ক আমানছবি : সংগৃহীত।
একটা অদ্ভুত কাজের দায়িত্ব নিয়ে নর্থ সিকিমের এক দুর্গম পাহাড়ে ট্রেক করতে রওনা হয় উদিত। কিন্তু সেই ট্রেক থেকে ফিরে আসার পরেই তার জীবনে একের পর এক ঘটতে থাকে অদ্ভুত ঘটনা। কোন প্রাচীন রহস্য চাপা পড়ে আছে ইয়োসামের পরিত্যক্ত কুটিরে? কোন দুঃস্বপ্ন তাড়া করে বেড়ায় উদিত আর ইভানার ছোট্ট, সাজানো সংসারকে? পাহাড়ের হাওয়া কি সত্যিই কিছু বলতে চায় পর্বতারোহীকে? সায়ক আমানের এই হরর উপন্যাস আপনাকে এক অদ্ভুত রহস্যময় পাহাড়ি দুনিয়ায় নিয়ে যাবে।
এখানে ভূত তাড়ানো হয়ছবি : সংগৃহীত।
শাফি পেশায় উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, শখে রাক্বী (ইসলামি শরিয়ত সম্মত উপায়ে যিনি ‘রুকইয়াহ’ বা ঝাড়ফুঁক করেন )। তার কাছে মুহিব আসে অদ্ভুত এক সমস্যা নিয়ে, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে পুবনগর নামের এক প্রতন্ত গ্রামে। সমস্যার সমাধানে নেমে শাফি জড়িয়ে পড়ে পুবনগরে ছড়িয়ে থাকা রহস্যের জালে। গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অসাধু জাদুকর, হর চেয়ারম্যান, স্কুল শিক্ষক ইমতিয়াজ আর আশ্চর্য বালক শফু জড়িয়ে যায় রহস্যের মায়াজালে। পুবনগরে ঘটে চলা অতিপ্রাকৃত ঘটনার জট ছাড়াতে গিয়ে শাফি আবিষ্কার করে জ্বিনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুই জাত ইফ্রিত-মারিদের সংযোগ। একই সঙ্গে সামনে আসে জ্বিন ও মানুষের শত্রুতার ইতিহাস... যার উৎস সুদূর ইয়েমেন।
নভেম্বর রেইন — কৌশিক সামন্তছবি : সংগৃহীত।
কালরাত্রির পর ফুলশয্যা হয়, তাই তো? কিন্তু ফুলশয্যাই যদি স্মৃতির কবর খুঁড়ে তুলে আনা একটুকরো বিষাক্ত স্মৃতির আঘাতে কালরাত্রি হয়ে যায়, তখন কী করা যায়? যাত্রা শুরুর আগেই ভেঙে পড়া জাহাজের কাণ্ডারি সায়ন ঠিক করল, হনিমুনে সে না হয় একাই যাবে প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছে — তবে এ বার একেবারেই উদ্দেশ্যহীন হয়ে। গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগে এক সহযাত্রীর কাছ থেকে সে এক অদ্ভুত জায়গার সন্ধান পেল, যেখানে নাকি সবাই যেতে পারে না। চলতি পথ ছেড়ে সে সেখানেই যাওয়ার রাস্তা ধরল। পৌঁছেও গেল সেই নিঃসঙ্গ পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে। অতীতের ভুল শুধরালে কি ভবিষ্যৎ বদলায়? উত্তর খুঁজবে এই গল্প।
ফাটল — নাজিম উদ্দিনছবি : সংগৃহীত।
কেমন হয় যদি একদিন ঘুম ভেঙে দেখেন আপনার চেনা জগতটা বদলে গিয়েছে? বদলে গিয়েছে নাম, পরিচয় আর সম্পর্কগুলো? চেনা মানুষগুলো হারিয়ে গিয়েছে কোনও এক অদৃশ্য ফাটলে, আর আপনার চারপাশ ঘিরে ধরেছে একদল অচেনা মুখ? মোহনপুরের মানুষের মুখে মুখে ফেরে অন্ধকূপ খালের গল্প। এই খালের অতল গভীরে নাকি লুকিয়ে আছে এক আদিম ফাটল, যা মানুষকে গিলে ফেলে। সদ্য বিবাহিত দম্পতি জিমি আর পায়েলের জীবনে এক অমাবস্যার রাতে ঘটে যায় সর্বনাশা এক ঘটনা। বাস্তব আর বিভ্রমের এই গোলকধাঁধায় জিমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছে? নাকি অন্য কারও পাপের বোঝা টানতে টানতে সেও হারিয়ে যাবে ফাটলের অতলে?
