ডি-থ্রি ট্রফি মানে তিনের ভেতর এক। প্রথম শ্রেণি (৪ দিনের ম্যাচ), ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আসর। ৬ দলের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক আসর। ২৩ জনের স্কোয়াড নিয়ে খেলতে হবে তিনটি আসর। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন আয়োজন। তাই বিসিবিরও ছিল চমক। ড্রাফটের মাধ্যমে আগেই ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজির পাশাপাশি আইকন ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফ বেছে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয় ভিন্ন দুটি দিনে। তারপর খেলোয়াড় নেওয়ার পালা। এখানে আর বিসিবি ড্রাফট রাখেনি। সরাসরি হাট। এই হাট থেকে খেলোয়াড় কিনতে আবার দলগুলোকে টাকার বস্তা নিয়ে নামতে হয়নি।
এর কারণও ছিল। বিসিবি আগেই ৩ ফরম্যাটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১ লাখ ৫০ হাজার, ওয়ানডে ম্যাচে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮০ হাজার টাকা। তাই খেলোয়াড় কেনার জন্য এক একটি দলকে পয়েন্ট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
প্রতিটি দলেরই সর্বোচ্চ পয়েন্ট ছিল ১০ কোটি। এখান থেকেই তাদের ২২ জন ক্রিকেটারকে কিনে নিতে হবে। কাজেই চাইলেও এক একটি দল নিজেদের পছন্দের ক্রিকেটার কিনতে কোটি কোটি পয়েন্ট ব্যয় করতে পারবে না। নিলামে অর্থের মতোই খেলোয়াড় নিয়ে কাড়াকাড়ি ছিল। এই কাড়াকাড়িতে সবচেয়ে বেশি দাম উঠেছে শরিফুল ইসলামের। তুমুল লড়াইয়ের পর ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে তাকে কিনে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট ওঠে তাসকিনকে পেতে। তাকে নিয়েও কাড়াকাড়ি হয়। ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টের বিনিমেয় তার ঠিকানা হয়েছে ওয়ালটন গ্রুপে। প্রথম দুটি স্থান পেসারদের হলেও তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট ওঠে ওপেনার তানজিদ তামিমের। ২ কোটি পয়েন্ট ব্যবহার করে তাকে পেয়েছে ফরচুন গ্রুপ।
পয়েন্টের ভিত্তিতে এই নিলামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও উপস্থাপক চারু শর্মা। সোমবার হোটেল শেরাটনে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় নিলামের আকর্ষণ অনেক বেড়ে যায়। তার উপস্থাপনার সময় বোঝাই যায়নি যে, টাকার খেলা হচ্ছে না! সবাইকে মুগ্ধ করে রাখার কারণে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হওয়া নিলাম অনুষ্ঠানে কাউকে বিরক্ত হতে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন
নিলামে ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে ৫ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২২ জন (আইকন ক্রিকেটারসহ), ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ জন, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৭০ জন, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ৫২ জন এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১১২ জন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ছিল ভিত্তিমূল্য।
‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৪০ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ পয়েন্ট। প্রতিটি দল ২২ জন ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ থাকায় ১৩২ জন ক্রিকেটার দল পাবেন। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিসিবির কাছে আবেদন করে দল না পাওয়াদের মাঝ থেকে ক্রিকেটার নেওয়া যাবে। প্রতিটি সংস্করণ শুরুর আগে ১৫ জনের স্কোয়াড জমা দিতে হবে টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে।
আরও পড়ুন
৬ দলের আইকন ক্রিকেটার হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একমি, মোহাম্মদ নাঈম শেখ সিটিজেনস ব্যাংক, নুরুল হাসান সোহান ব্লু স্টার, তাওহীদ হৃদয় ফরচুন গ্রুপ, মুশফিকুর রহিম সেভেন রিংস সিমেন্ট এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ালটন।
নিলামে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সবার আগে নাম ওঠে শেখ মাহাদী হাসানের। শুরুটা হয় কাড়াকাড়ি দিয়ে। ৪০ লাখ পয়েন্ট থেকে তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে পরে দেড় কোটি পয়েন্টে পেয়ে যায় ব্লু স্টার। এর পরই বাজার গরম করে দেয় ফরচুন গ্রুপ। পছন্দের ক্রিকেটার ছাড়তে তারা নারাজ ছিল। ১০ কোটি পয়েন্টের মাঝে ৩ কোটির ওপরে ব্যবহার করে ফেলে ৩ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ তামিমকে। সৌম্যকে ৭৫ লাখ, নাজমুল হোসেন শান্তকে ১ কোটি ৫ লাখ ও তানজিদ তামিমের জন্য কোটি পয়েন্ট ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন
এই ৩ জনই ছিলেন ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রথম ৫ জনের সিরিয়ালে। পয়েন্টের মূল্যমানে ২ কোটি না ছাড়ালেও অল্প কমে সাইফ হাসান ও হাসান মাহমুদকে পেতেও তুমুল লড়াই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্ট ব্যবহার করে সাইফ হাসানকে সেভেন রিংস ও হাসান মাহমুদকে ব্লু স্টার পেয়ে যায়। ১ কোটি ৮০ লাখ পয়েন্টে জাকের আলী অনিককে পেয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।
নিলামে অনেক কম পয়েন্ট উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানার ক্ষেত্রে। মোস্তাফিজকে মাত্র ৭০ লাখ পয়েন্টে সেভেন রিংস, রিশাদ হোসেনকে ৬০ লাখ পয়েন্টে ফরচুন গ্রুপ এবং নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে ব্লু স্টার পেয়েছে। এর কারণ প্রথম দুজন বিগ ব্যাশে খেলবেন। তাদের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি আসরে পাওয়া যাবে না। নাহিদ রানা আছেন ইনজুরিতে।
প্রতিটি দলই তাদের প্রয়োজনীয় ক্রিকেটার প্রথম ৪ ক্যাটাগরি থেকে নেওয়াতে ‘ই’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা খুবই কম দল পেয়েছেন।
এদিকে, উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটারদের মাঝে দল পাননি নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আলাউদ্দিন বাবু, প্রীতম কুমার, আশিকুর রহমান শিবলি।
১৫ ডিসেম্বব বরিশালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে ডি-থ্রি ট্রফি। ফাইনালসহ মোট ১৯টি খেলা। ৩১ ডিসেম্বর বরিশালই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
পলাশ/নাঈম
