দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছেন হ্যারি কেইন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে বিশ্বসেরার মুকুট পরেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনের পর পঞ্চম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এই বিরল সম্মান অর্জন করলেন। এছাড়া ১৯৮১ সালে কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বর্ষসেরার এই সোনালি ট্রফি জেতার গৌরব অর্জন করলেন কেইন।
তবে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এত বড় একটি পুরস্কার জেতার পর হ্যারি কেইন আসলে নগদ কত টাকা পুরস্কার পেলেন?
ফ্রান্সের ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ এবং উয়েফা যৌথভাবে এই ব্যালন ডি’অর প্রদান করে থাকে। ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই পুরস্কারের সঙ্গে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিজয়ী খেলোয়াড়কে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয় না।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘বিআইএন স্পোর্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ীর হাতে যে সোনালি ট্রফিটি তুলে দেওয়া হয়, সেটির আনুমানিক বাজারমূল্য মাত্র ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি।
তবে এটি কেবল ট্রফিটির বস্তুগত বা উপকরণের মূল্যায়ন, কোনো ক্যাশ প্রাইজ বা নগদ অর্থ নয়। অর্থাৎ, ব্যালন ডি’অর জেতার সুবাদে কেইন সরাসরি কোনো আর্থিক প্রাইজমানি পাচ্ছেন না; তার প্রাপ্তি কেবল মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফি এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতি।
যেভাবে লাভবান হবেন হ্যারি কেইন
আয়োজকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো নগদ অর্থ না পেলেও আর্থিকভাবে ঠিকই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই ইংলিশ তারকার সামনে।
প্রথমত, বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে করা তার চুক্তিতে ব্যালন ডি’অরের মতো এমন বড় কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য বিশেষ কোনো পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বোনাস বা ক্লজ যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে ক্লাব বা খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদি এমন কোনো শর্ত থেকে থাকে, তবে ক্লাব থেকে বড় অঙ্কের আকর্ষণীয় বোনাস পেতে পারেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক দুনিয়ায় কেইনের কদর এখন আকাশচুম্বী। ব্যালন ডি’অর জয়ী হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তার ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজারদর বহুগুণ বেড়ে গেছে। নতুন নতুন স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপনের অফার এবং শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে চুক্তির দরজা এখন তার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত।
উল্লেখ্য, ৩৩ বছর বয়সী হ্যারি কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে অবিশ্বাস্য সময় কাটিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচ খেলে ৭৩টি গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে একা বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতেই এসেছে ৬১টি গোল, যা জার্মান ক্লাবটিকে বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখতে এবং ঘরোয়া ফুটবলের অন্যান্য ট্রফি জিততে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
