Published on
:
2 min read
শিলাদিত্য সাহা
মাত্র তিন মাসের ব্যবধান। আবার চোরাশিকারের ছায়া কুনোয়!
গত জুলাইয়েই কুনোর চিতা ল্যান্ডস্কেপ থেকে ১০টি লেপার্ডের চামড়া উদ্ধার ও সেই ঘটনার তদন্তে ৭ জন চোরাশিকারি গ্রেপ্তার হয়েছিল। তখনই আশঙ্কা করা হয়েছিল, চোরাশিকারিদের পরবর্তী টার্গেট চিতা নয় তো? ঘটনা হলো, রবিবার সন্ধ্যায় মধ্যপ্রদেশের মোরেনায় পাহাড়পুর এলাকায় মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ভারতের মাটিতে জন্মানো একটি পুরুষ চিতাকে। কুনো ন্যাশনাল পার্কের তরফে জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদি চিতা নিরভার ১৯ মাস বয়সি পুরুষ শাবকটিকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে রাতেই কুনোর পশু চিকিৎসালয়ে আনা হয়েছে। কী ভাবে চিতাটি জখম হলো, তার পিছনের কারণ হিসেবে কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কুনো কতৃর্পক্ষ। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে বিবৃতির আড়ালে থাকা তথ্য আরও মারাত্মক। কুনোর চিফ কনজ়ারভেটর অফ ফরেস্ট উত্তম শর্মার কথায়, 'চিতাটি আপাতত 'গার্ডেড সিচ্যুয়েশন'–এ রয়েছে। অর্থাৎ ওর চিকিৎসা চলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার আগে চিতাটির শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ওর শরীরে চোট রয়েছে। তবে সেটা ঠিক কী ভাবে লাগল, বলার পরিস্থিতি আসেনি।'
চিতাটির গলায় রেডিয়ো কলার ছিল। তাকে ট্র্যাক করার জন্য মনিটরিং টিমও ছিল। তার পরেও কী ভাবে সবার অলক্ষ্যে শরীরের পিছন দিকে একাধিক গভীর আঘাত পেল চিতাটি? মধ্যপ্রদেশের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) সমিতা রাজোড়া গোটা ঘটনায় চোরাশিকারিদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁর কথায়, 'রবিবার চিতাটিকে জখম উদ্ধার করা হয়, তখন ও নড়তেই পারছিল না। সেই কারণে সব সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই আমরা চলছি। ঘটনার তদন্তে স্টেট টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স, বন দপ্তরের ডগ স্কোয়াড আর স্থানীয় প্রশাসনকে নামানো হয়েছে। কোনও জানোয়ারের আঘাতে ও জখম হয়েছে, নাকি লাঠির মতো কিছু দিয়ে ওকে মারা হয়েছে — সবটাই দেখা হচ্ছে। ট্র্যাকিং টিম গাড়ি নিয়ে কাছাকাছি থাকার পরেও কেউ চিতা শিকারের চেষ্টা করেছে কি না, সেটাও আমরা দেখতে চাইছি।'
গত ২৩ জুলাই উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় ১০টি লেপার্ডের পূর্ণাঙ্গ চামড়া ও আরও দেহাংশ বাজেয়াপ্ত হয়। জেরায় জানা যায়, পড়শি মধ্যপ্রদেশের জঙ্গল থেকে শিকার করে এগুলো আনা হয়েছে। ৩০ জুলাই অভিযান চালিয়ে চিতার বিচরণভূমি শেওপুর ও মোরেনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাত চোরাশিকারিকে। তাদের মধ্যে ৬ জন শেওপুরের, একজন মোরেনার বাসিন্দা।