লন্ডন থেকে সংবাদদাতা: যুক্তরাজ্যে এক বছরে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ পেয়েছেন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা সেটেলমেন্ট। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) প্রকাশিত সর্বশেষ অভিবাসন পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকেরা শীর্ষ দুটি অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, সেটেলমেন্ট পাওয়ার তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা।
হোম অফিস গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ‘ইমিগ্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিস্টিকস, ইয়ার এন্ডিং জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়। এতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাসের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব প্রদানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও ঐতিহাসিকভাবে তা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৮ জনকে সেটেলমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ২৪ শতাংশ বেশি। ২০১১ সালের পর এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ সেটেলমেন্ট প্রদানের সংখ্যা।
হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন রুটে আগে অবস্থান করা ৮০ হাজার ৪০৯ জনকে সেটেলমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজের ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত সময়ের বৈধ বসবাসের শর্ত পূরণ করায় এ সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনালস (ওভারসিজ) বা বিএনেরও ভিসা রুটের আওতায় আসা ব্যক্তিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও নির্ধারিত বসবাসের সময় পূর্ণ করে সেটেলমেন্ট পেয়েছেন।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে সেটেলমেন্ট পাওয়া মানুষের জাতীয়তাভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। প্রধান তিনটি দেশের পরিসংখ্যান হলো, ভারত: ৩৫ হাজার ৩৮৪ জন, হংকং: ২২ হাজার ৫৯৩ জন, চীন: ২১ হাজার ৩০০ জন।
ভারতীয় নাগরিকদের সেটেলমেন্ট পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা ভারতীয়দের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় পূর্ণ করায় এ বৃদ্ধি ঘটেছে।
হংকংয়ের নাগরিকেরা এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ২০২১ সালে চালু হওয়া বিএনেরও ভিসা রুটের আওতায় যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এখন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ করেছেন।
অন্যদিকে, চীনা নাগরিকদের সেটেলমেন্ট পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের ৫ হাজার ৫৭০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৩০০ হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে এ সংখ্যা প্রায় চার গুণ হয়েছে। হংকং ও চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির পেছনে বিএনেরও ভিসা রুটের আওতায় বসবাসকারী ব্যক্তিদের যোগ্যতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেটেলমেন্টের পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। হোম অফিসের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ জন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৪ শতাংশ কম। তবে ২০০৫ সাল থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে নাগরিকত্ব প্রদানের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি।
এর মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৫ জন নাগরিকত্ব পেয়েছেন ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায়। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় ৭৪ হাজার ৮৫ জন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। শিশু এবং নির্দিষ্ট আইনি যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব অর্জনের এ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকেরা শীর্ষ দুটি অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও উল্লেখযোগ্যসংখ্যায় ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রধান দেশগুলোর পরিসংখ্যান হলো, ভারত: ২৪ হাজার ৮৫১ জন, পাকিস্তান: ১৮ হাজার ৪৮৯ জন. ইতালি: ১২ হাজার ৬৯৮ জন, রোমানিয়া: ৮ হাজার ২৮৫ জন, পোল্যান্ড: ৮ হাজার ৯২ জন।
ভারতীয় নাগরিকেরা নাগরিকত্ব পাওয়ার তালিকায় প্রথম এবং পাকিস্তানি নাগরিকেরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এ দুই দেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ আগে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস করেছেন, সেটেলমেন্ট পেয়েছেন এবং পরে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে ইতালীয়রা সর্বোচ্চসংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁদের পর রয়েছেন রোমানিয়ান ও পোলিশ নাগরিকেরা। এসব দেশের বহু নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে যোগ্যতা পূরণকারী অনেকে পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা দেশটির অভিবাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।
