চট্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণ গেল ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চট্টগ্রামের পটিয়ায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তানিয়া কামাল নিহাত (২০) নামের নয় মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত তানিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তার স্বামী নুর উদ্দিন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে যৌতুকের দাবিতে তানিয়াকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ের জন্য নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেছিলেন। রমজান মাসে সাধ্যমতো উপহার দিলেও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয়। কিন্তু তার পক্ষে সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।’
মোহাম্মদ কামালের অভিযোগ, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তানিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
পটিয়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুকের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, গৃহবধূর স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনি নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে এসব তথ্য জানায় বিজিবি।
এর আগে, রবিবার (২৫ অক্টোবর) থেকে নির্বাচনি এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
নির্বাচনি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি কে-৯ ডগ ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল।
বিজিবির সেক্টর কমান্ডার মো. সুরুজ মিয়া জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং ভোটাররা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।
বিজিবি আরও জানায়, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন সদস্যরা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।
বিধান চন্দ্র দাস/সালমান/
আরও পড়ুন
ঈশ্বরদীতে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: প্রতীকি
-->পাবনার ঈশ্বরদীতে ট্রাকের ধাক্কায় এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত, আহত হয়েছেন আরও ১ জন ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাছ ব্যবসায়ীর নাম আতিকুর রহমান (৪০)। সে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের চর আল্লাদি গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে। আহত আনিছুর রহমান একই গ্রামের বাসিন্দা।
পাকশী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, মাছ ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান ভুটভুটিতে মাছ নিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার দিকে যাচ্ছিলেন। রূপপুর মোড়ে এলে কুষ্টিয়ার দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ভুটভুটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে আতিকুর সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আনিছুর রহমানকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রাকটি আটক করে থানায় রাখা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন/অলি/
আরও পড়ুন
ঝালকাঠিতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সাঁকো নির্মাণ
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বাড়ানি খালের ওপর কাঠের সাঁকো নির্মাণ করছেন যুবকরা। গতকাল ঝালকাঠির রাজাপুরে বদনিকাঠি এলাকায়।ছবি: খবরের কাগজ
-->ঝালকাঠির রাজাপুরে বাড়ানি খালের ওপর জরাজীর্ণ পুলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেছে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। গত শনিবার দিনব্যাপী সংগঠনটির ৩০ জন যুবক এ কাজে অংশ নেন। সাঁকোটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদনিকাঠি এলাকায় বাড়ানি খালের ওপর প্রায় ৫৫ ফুট দীর্ঘ একটি পুরোনো লোহার পুল ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন খালের দুই পাড়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা পুলটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নজরে আসে। এরপর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলটি ছয় থেকে সাত বছর ব্যবহার করা যাবে।
স্থানীয় বৃদ্ধ আবুল কাশেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালের দুই পাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলেন। পুলটি নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুব খুশি। এখন এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াতে আগের মতো অসুবিধায় পড়তে হবে না।’
স্থানীয় যুবক শাহাদাৎ ব্যাপারী বলেন, ‘পুলটি জরাজীর্ণ থাকায় পারাপারের সময় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। পুলটি নির্মাণের ফলে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মঠবাড়ি ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহাদাৎ জানান, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বদনিকাঠিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের কষ্ট কমবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এ কাজ করেছেন।
সমাজসেবক জাকির হোসেন খান বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রত্যেক মানুষের জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। সব সময় সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেদেরও উদ্যোগ নিতে হবে।’
আরও পড়ুন
শঙ্কার মধ্যেও আশার আলো পটুয়াখালীর উপকূলে বাড়ছে সবুজের বিস্তার
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম
বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সবুজ ঝাউবাগান। সম্প্রতি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির বালুচরে।ছবি: খবরের কাগজ
-->পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে আবারও সবুজের দেয়াল গড়ে তুলছে বনবিভাগ। গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর সৈকতে লাগানো হচ্ছে ঝাউগাছ। পাশাপাশি আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর তীরেও চলছে বনায়ন। বিশেষ করে ছইলা ও কেওড়ার মতো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সবুজের আচ্ছাদন। এতে উপকূলের বনভূমি সাগরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কার মধ্যেও নতুন চরভূমিতে গাছ লাগানোর এ উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, কলাপাড়ায় বন সৃজনের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ১৯৫৭ সালে এ অঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ষাটের দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে কৃষিজমি ও জনবসতিকে লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষার জন্য নদী ও সাগরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাঁধের বাইরের অংশে ব্যাপকভাবে গোলগাছসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান গড়ে তোলা হয়। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলাপাড়ায় ২ হাজার ৭৯৪ একর জমিতে গোলপাতার বাগান, ৬২৭ একরে কড়ই, ৩২০ একরে গেওয়া, ২১০ একরে নারিকেল, ১০৫ একরে সুন্দরী, পশুর ও কেওড়া, ৪৬ একরে সেগুন এবং ৪০ একরে হোগলাপাতার বাগান ছিল। এছাড়া ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ১ হাজার ৯২৯ একর এবং নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ৩১২ একর। পরবর্তী সময়ে সড়কের সংযোগপথ ও বাঁধের বিভিন্ন অংশে স্ট্রিপ বনায়ন এবং শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুয়াকাটা, খাজুরা, ধুলাসার ও গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখনো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশে গত দুই দশকে সাগরের ভাঙনে ম্যানগ্রোভসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বনভূমি পরিণত হয়েছে বালুচরে। তবে গঙ্গামতির দক্ষিণ-পূর্ব দিক এবং রাবনাবাদ মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠায় সেখানে বনায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বন বিভাগ। এদিকে নদীতীরে জেগে ওঠা চরভূমি যথাযথভাবে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় অনেক এলাকায় গাছ কাটা ও জমি দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, নতুন করে লাগানো ঝাউবাগানটি এখন বেশ সুন্দর দেখায়। তবে চরের বাকি অংশেও এভাবে বাগান করা প্রয়োজন। একই দাবি জানান নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদার।
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চল দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে নতুন জেগে ওঠা সব নদীতীরের চরভূমি বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আন্ধারমানিক নদীর তীরের প্লাবনভূমিসহ চর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় নদীর তীর দখল করে ইটভাটা, মাছের ঘের ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগকে আন্তরিক হতে হবে। সংরক্ষিত বনের এলাকায় কৃষিকাজ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে জোয়ারে ভেসে আসা বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে কাউয়ার চরে ৩২ একর জমিতে নতুন ঝাউবাগান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নদীতীরে প্রায় ৫০ একর জমিতে ছইলা ও কেওড়াসহ ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছ এখন বেড়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাত থেকে আট বছর আগে গঙ্গামতির তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ একর এলাকায় বনায়ন করা হয়। এসব গাছের অনেকগুলোই এখন বড় হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাগানগুলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে চারা রোপণ করা হয়।’
