এবারের মৌসুমের শুরু থেকে স্প্যানিশ লা লিগায় টানা নয়টি জয়। রীতিমতো উড়ছিল প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। তাদের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও ছিল তীব্র হতাশাজনক। সঙ্গে স্কোয়াডে নিষেধাজ্ঞা ও চোটের হানা তো ছিলই। তবে রোববার রাতে পাল্টে গেল সব হিসাবনিকাশ। জোসে মরিনহোর রিয়াল রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে দিল হান্সি ফ্লিকের বার্সাকে।
ক্যাম্প ন্যুতে গিয়ে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে লস ব্লাঙ্কোরা। দুই দলের মধ্যকার সবশেষ আট ম্যাচে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় জয়। রাফিনিয়া সমতা টানলেও কিলিয়ান এমবাপের জোড়া লক্ষ্যভেদ গড়ে দেয় ব্যবধান।
২০১০ সালে রিয়ালের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার মাঠে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল মরিনহোকে। ১৬ বছরের ব্যবধানে এবার ভিন্ন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম এল ক্লাসিকোতে পর্তুগিজ কোচের এই জয় বার্তা দিয়েছে যে, কাতালানদের সাম্প্রতিক আধিপত্যকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত রিয়াল।
ম্যাচের আগের আবহ এবং ম্যাচ চলাকালে বলের দখল, শট ও পাসের সংখ্যা— বার্সেলোনা সবদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে রিয়াল খেলেছে প্রতিপক্ষের কৌশলের উপযুক্ত জবাব দিয়ে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পঞ্চম জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে মরিনহোর কণ্ঠে ছিল গর্ব আর তৃপ্তি, ‘ছেলেরা অসাধারণ একটি ম্যাচ খেলেছে। তারা অত্যন্ত গোছালো ও মনোযোগী ছিল। তীব্র প্রেস করা প্রতিপক্ষের বিপরীতে রক্ষণ থেকে পাস খেলে বল বের করে আনার সাহস তারা দেখিয়েছে।’
বার্সেলোনার হাই-প্রেসিং সামাল দিতে মরিনহোর বেছে নেওয়া ছক সফল হয়েছে। রিয়ালের খেলোয়াড়রা নিজেদের অর্ধ থেকেই দারুণ গতি ও নিখুঁত পাসের সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি করেন। ফলে হতচকিত হয়ে বারবার এলোমেলো হয়ে পড়ে বার্সার রক্ষণভাগ।
টানা তৃতীয় ম্যাচের মতো রিয়ালের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে পজিশন বদলে রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলেন। ভিন্ন পজিশনেও তার এই নিবেদন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মরিনহো কেবল খেলোয়াড়দের সেরাটাই বের করে আনছেন না, বরং পুরো ড্রেসিংরুমের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখছেন। অর্থাৎ তিনি স্কোয়াডে ফিরিয়ে এনেছে বহু কাঙ্ক্ষিত ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস। একইসঙ্গে তার কৌশল যে রিয়ালকে ফের স্প্যানিশ ফুটবলের চূড়ায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম, তার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে।
তবে নিজে কৃতিত্ব নিতে নারাজ ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ সব প্রশংসা ঠেলে দেন শিষ্যদের দিকে, ‘এই জয়ের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। এটাই আমাদের জীবন, কোচদের জীবন। এই কারণে এক সপ্তাহের পর অন্য সপ্তাহে কোচরা চাকরি হারান। তবে এটাই বাস্তবতা। আর এক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হলেও আমি ভীষণ খুশি। খেলোয়াড়রা এই কৃতিত্বের যোগ্য। সত্যিই তাদের এটা প্রাপ্য।’
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পেছনে থেকে ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল রিয়াল। অসাধারণ জয়ে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে তিনে নামিয়ে এনেছে তারা।
