পুজোর চার দিন বিরিয়ানি, রোল, ফুচকা, মিষ্টি ছেড়ে ডায়েটের কথা কেই বা মনে রাখে? পুজো মিটতেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, এবার একটু রাশ টানা দরকার। আর তখনই স্ন্যাকস নিয়ে মাথায় চিন্তা। মুড়ি, ছোলা, বাদাম রোজ রোজ ভাল লাগে না! সন্ধ্যাবেলা চা-এর সঙ্গে একটু ভাল কিছু খেতে ইচ্ছে করলে কি কবাব খাওয়া যেতে পারে? রেস্তরাঁর মেনুতে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রথমেই থাকে কবাব। সত্যিই কি ডায়েটে কবাব খাওয়া যায়?
পুষ্টিবিদদের মতে, কোন কবাব খাচ্ছেন তার উপর সব নির্ভর করছে। কেন কবাব ওজন কমানোর ডায়েটে ভালো অপশন হতে পারে? পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কবাব শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর, সেটা মূলত নির্ভর করে এটি তৈরি করার পদ্ধতি এবং উপকরণের উপর। সাধারণত কবাব ক্ষতিকর নয়, বরং এটি প্রোটিনের খুব ভাল উৎস। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁরা সুস্বাদু কিছু খেতে চাইলে কবাব খেতেই পারেন। তবে কিছু কারণে এটি স্বাস্থ্যের ক্ষতিও করতে পারে।’’
পুষ্টিবিদের মতে, সব কবাব স্বাস্থ্যকর নয়। আর এখানেই ভুলটা সবাই করে। রেস্তরাঁয় মালাই কবাব, রেশমি কবাবে ভরপুর মাত্রায় ফ্রেশ ক্রিম, মাখন, কাজুবাটা থাকে। স্বাদে দারুণ, কিন্তু ক্যালোরি আকাশছোঁয়া। অনেক জায়গায় তন্দুর থেকে বার করেই উপর থেকে একগাদা মাখন ব্রাশ করে দেওয়া হয়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সেই সব কবাব এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। দুই টুকরো চিকেন টিক্কা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু তার সঙ্গে দুটো বাটার নান, মেয়োনিজ়ে ভরা গ্রিন চাটনি আর নরম পানীয় খেলে ডায়েট শেষ।
ডায়েট করলে কি কবাব খাওয়া যাবে?
অবশ্যই খাওয়া যাবে। প্রকৃতপক্ষে, লো-কার্ব বা কিটো ডায়েটে কবাব একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
১. ডুবো তেলে ভাজা কবাব, যেমন, জালি কবাব বা শামী কবাব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে গ্রিলড, শিক কাবাব বা তন্দুরি কাবাব বেছে নিন। এতে তেল কম থাকে।
২. চর্বিযুক্ত মাংসের চেয়ে চর্বিহীন মাংসের তৈরি কবাব খান। যেমন, মুরগির মাংস বা মাছের কবাব। ওজন কমানোর ডায়েটে ওগুলি বেশি উপযোগী।
৩. কবাব খাওয়ার সময়ে এর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে শসা, লেবু এবং কাঁচা লঙ্কার স্যালাড খান। এটি হজমে সাহায্য করবে এবং ফাইবারও যোগ করবে।
৪. দোকানের কেনা মেয়োনিজ় বা চিনিযুক্ত সস্ এড়িয়ে পুদিনাপাতার চাটনি বা টক দইয়ের রায়তা ব্যবহার করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কোন ৩ কবাব সবচেয়ে নিরাপদ?
১. চিকেন টিক্কা: সবচেয়ে ভাল বিকল্প। বোনলেস চিকেন ব্রেস্ট দিয়ে বানানো হয়, ফ্যাট সবচেয়ে কম। এক প্লেটে (৬ পিস) প্রায় ২৫০-৩০০ ক্যালোরি।
২. ফিশ টিক্কা: ভেটকি বা তেলাপিয়ার ফিশ টিক্কা আরও ভাল। মাছে ওমেগা ৩ আছে, হজমও সহজ।
৩. পনির টিক্কা (ঘরে বানালে): বাইরের পনির টিক্কায় তেল বেশি থাকে। বাড়িতে অল্প তেলে, দই দিয়ে ম্যারিনেট করে বানালে প্রোটিনের দারুণ উৎস।
