সপ্তাহ আগে বাবা হয়েছিলেন। মেয়ের নামকরণের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মেদিনীপুর থেকে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাড়ি আসেন আসগর। তবে সেই আনন্দে বদলে গেল বিষাদে। বাড়ি ফেরার কয়েরঘণ্টার পর মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক। মঙ্গলবার সকালে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে চাষের জমিতে উদ্ধার যুবকের দেহ। প্রাথমিক অনুমান, কোনও দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে যুবকের। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আসগর শেখ। বয়স ২৭ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের সুতি থানার গোঠা চাঁদনিচক গ্রামের বাসিন্দা। অভাবের সংসার। বিয়ের পর পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে বছর দুয়েক আগে মেদিনীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজে যান তিনি। মাসে খুব বেশি হলে একবার, দুইবার বাড়িতে আসতেন। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফোনে জানতে পারে স্ত্রী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই খবর পাওয়ার পর সোমবার বাড়িতে ফেরেন তিনি। মেয়ের নাম দেন। খুশিতে ছিল গোটা পরিবার। নামকরণের অনুষ্ঠান আকিকার প্রস্তুতি চলছিল।
বাড়িতে সময় কাটিয়ে সোম সন্ধ্যায় মেয়ে হওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে স্থানীয় মহেশাইল মোড়ে যান। গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসেন। বন্ধুরা জানাচ্ছেন, খুব খুশি ছিল আসগর। বারবার মেয়ের কথা বলছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুরা রাতে বাড়ি ফিরে গেলেও আসগর স্থানীয় একটি দোকানে থেকে যান। সেখানে মদ্যপান করেন। এরপর গভীর রাতে একা একা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নেশাগ্রস্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় রাস্তা পার হতে গিয়ে কোনও দ্রুতগামী লরি বা গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। কেউ দেখতে পায়নি। রক্তাক্ত অবস্থায় সারারাত পড়ে ছিলেন মহেশাইল মোড় সংলগ্ন আখ ক্ষেতের পাশে। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে গিয়ে দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর যায় সুতি থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। শিশুকন্যার বাবা বাড়ি ফিরলেই শুরু হবে অনুষ্ঠান। সেই সময় বাড়িতে পৌঁছয় যুবকের মৃত্যু সংবাদ। কান্নায় ভেঙে পড়েন আসগরের স্ত্রী। মাত্র সাতদিনের মধ্যেই পিতৃহারা হল সদ্যোদাত। সে জানে আর কোনও দিন বাবার স্পর্শ পাবে না।
