বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে অতি গভীর নিম্নচাপ। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব তৈরি হয়ে অতি শক্তিধর হয়ে উঠবে। এমনই বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এর গতিমুখ রয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। দুর্যোগের প্রভাব বাংলাতেও এসে পড়বে। উপকূল এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। সেই আশঙ্কাও করা হচ্ছে। একদিকে দুর্যোগ, অন্যদিকে পূর্ণিমার ভরা কোটাল। দুইয়ের প্রভাবে উপকূল এলাকাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব কতটা বাড়বে? সেই চর্চা চলছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ সুন্দরবন উপকূল ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওইসব এলাকায় নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সেজন্য উপকূল এলাকায় শুরু হয়েছে নজরদারি, মাইকিং। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়, নামখানায়, মৌসুনি দ্বীপে এদিন সকাল থেকেই চলছে প্রচার, নজরদারি।
ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সুন্দরবন এলাকায় আগেও প্রভাব পড়েছে। বহু জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকে যায়। চাষের জমি নোনা জলে প্লাবিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এবারও নদী ও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নামখানা-সহ উপকূলবর্তী বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে মাইকে সতর্কবার্তা দিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। সমুদ্রে মাঝ ধরতে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নদী ও সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের আজ, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের মোকাবিলায় গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনি এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মোতায়েন হয়েছেন। সুন্দরবনের সমস্ত ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এলাকাতেও নজরদারি বেড়েছে। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনি এলাকায় সমুদ্র মঙ্গলবার থেকেই ক্রমে উত্তাল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে যাতে পর্যটকরা না নামেন, সেজন্যও নজরদারি শুরু হয়েছে।
